![]() |
| source : adobe stock |
বহুকাল আগে আমাদের এই পৃথিবী ভারী অন্ধকার অন্ধকার ছিল । দিনের বেলাতে সূর্যের আলাে সরাসরি আসত না । রাতের আকাশ তাে মিশমিশে কালাে । গাছপালায় ছিল না সবুজের জলুস । পশুপাখি মানুষজন সব কেমন মনমরা । কারাে মুখে হাসি নেই । নেই গান । কিছুই ভালাে লাগে না । তাই বােধ হয় হঠাৎ মাটির এক মেয়ে গোঁ ধরে বসল , সে বিয়ে করবে না । এদিকে তার বাবা - মা পাত্র ঠিক করে ফেলেছে । আগামীকাল বিয়ে ! জিনিসপত্র কেনাকাটা আয়ােজন টায়ােজন সব শেষ । এখন জেদি মেয়ে কিনা বেঁকে বসেছে।
বাবা মা কত বােঝায় , সােনার টুকরাে ছেলে , দিব্যি সুখে স্বচ্ছন্দে থাকবি । কিছুই কষ্ট হবে না । কিন্তু মেয়ে কিছুতেই রাজি হয় না । কীসে তার আপত্তি জিজ্ঞাসা করলে অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে জানায় , ইচ্ছে করছে না বিয়ে করতে । বাবা চটেমটে বলে , খেয়ালিপনা রাখ । কবে তাের মন করবে তার জন্য পাত্তর বসে থাকবে । কালই তাের বিয়ে , ব্যস।
মেয়ে মুখে কিছু বলল না বটে কিন্তু ভয় পাবার পাত্রী সে নয় । সে ভেবেটেলে ঠিক করে ফেলে অগত্য কী করা । বিয়ের দিন ভোর থেকে বাড়িতে হইচই , কাজকর্মে সাজানাে গােছানােয় সবাই ব্যস্ত । কোন ফাঁকে সকলের চোখে ধুলাে দিয়ে কনে (পালিয়ে যায় । গাঁ পেরিয়ে সােজাজঙ্গলে বাড়ির লােক টের পেয়ে খােজাখুজি করতে এসে পাছে ধরে ফেলে , এই ভয়ে সে বেপরােয়া হয়ে দৌড়োতে থাকে বনের মধ্যে । রাস্তা তাে নেই । গাছপালা ঝোপঝাড় এদিক ওদিক করে পেরিয়ে যাচ্ছে তাে যাচ্ছে । শেষে দেখে ছোটো একফালি মাঠের মতাে জায়গা । চারিপাশে বনের ঝাকড়া গাছগাছালির দেওয়াল।
বাঃ বেশ সুন্দর তাে ! এতক্ষণ দৌড়ে হাঁফ ধরে গিয়েছে । একটু আরাম করে বসতে যাবে , হঠাৎ দেখে শূন্য থেকে ঝুলছে ইয়া মােটা একটা দড়ি । একেবারে তার হাতের নাগালের মধ্যে । ভারী কৌতুহল হল মেয়েটির । দেখাই যাক না ব্যাপারটা কী । দড়িটা যেই না দু - হাতে চেপে ধরেছে অমনি সা করে তাকে সুধূ দড়িটা ওপরে উঠতে লাগল । উঠছে তাে উঠছেই , উঠছে তাে উঠছেই।
মেয়ে তাে ভয়ে কাঠ । নীচের দিকে তাকিয়ে দেখে গাছপালা পাহাড়পর্বত নদীনালা খেত খামার ক্রমেই ছােটো হতে হতে মিলিয়ে যাচ্ছে । কিছুক্ষণ পর আর কিছু নেই । খালি ধোয়া ধোয়া মেঘ । ভয়ে চোখ বন্ধ করে প্রাণপণে দড়িটা আঁকড়ে ধরে থাকে । হঠাৎ দুম করে এক ধাক্কা ! চোখ মেলে দেখে সে পড়ে আছে এক বনের ধারে । আস্তে আস্তে উঠে দাড়ায় সে । দুরে ছবির মতাে একটা শহর । অবাক হয়ে চেয়ে থাকে মেয়ে । যেন এক অন্য জগৎ । এতটুকু মাটি নেই । কোথাও । সব শানবাঁধানাে নিরেট মসৃণ । ঝকঝকে তকতকে । গাছপালাগুলাে মনে হয় পাথরে কুঁদে কে গড়ে রেখেছে । আর চারিদিকে কী তীব্র আলাে ! মাটির মেয়ের তাে পৃথিবীর ছায়া - ছায়া অন্ধকারে বাস করা অভ্যেস । তার চোখ একেবারে ধাধিয়ে যায় । বসে পড়ে কতক্ষণ চোখ বুজে থাকে সে।
এদিকে সন্ধে হয়ে আসে । সুয্যিঠাকুরের মা হাঁটতে বেরিয়ে শহরের সীমানা ছাড়িয়ে যেতে যেতে দেখেন পথের ধারে পারিজাত বনের ছায়ায় শুকনাে মুখে এক ফুটফুটে মানুষের মেয়ে। দেখে তার যেমন ভালাে লাগল তেমনি হল মায়া । কাছে গিয়ে থুতনি ধরে আদর করে শুলেন , আহা , তুমি কাদের বাড়ির মেয়ে বাছা ? এমন লক্ষ্মীমন্ত রূপ , ভর সন্ধেয় একলাটি এখানে বসে?
মেয়েটি বয়সে কাচা হলেও বুদ্ধিসুদ্ধিতে ছিল পাকা । ভাবল , বিয়ের আসর থেকে পালানাের কথাটা না বলাই ভালাে । গলায় আঁচল দিয়ে সুয্যিঠাকুরের মাকে ঢিপ করে প্রণাম করল সে । তারপর বলল , মা আমি বড়াে দুঃখী । আমার কেউ নেই । ঘুরতে ঘুরতে এখানে চলে এসেছি । কাউকে চিনি না , জানি না । তাই কোথায় যে যাব কিছু ঠাওর করতে না পেরে এখানে চুপ করে বসে আছি।
সুয্যিমা তখন বললেন , বেশ তাে , তুমি আমার সঙ্গে চলাে না । ওই যে দূরে দেখছ স্বর্গ , ওখানে আমার বাড়ি । সেখানে মেয়ের মতাে থাকবে । আমার তাে থাকার মধ্যে সবেধন নীলমণি
একটি ছেলে । তার নাম সুয্যি । দেবতাদের মধ্যে সে ভারী একজন কেউকেটা । আমার বড় শখ একটা মেয়ের । তােমাকে আমার খুব মনে ধরেছে । তােমার সঙ্গে আমার ছেলের বিয়ে দিয়ে তােমাকে আমার কাছে রাখব।
শুনে তাে মেয়েটির মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল । এ কী জ্বালা ! বিয়ের হাত থেকে রেহাই পাবার জন্য সে বাবা মা বাড়িঘর পৃথিবী সব ছেড়ে পালিয়েছে । এখন স্বর্গে এসে কিনা সেই বিয়েরই ফাদে পড়তে হবে। হলই বা দেবতা বা স্বয়ং সুয্যিঠাকুর । বিয়ে তাে ! তার তাে বিয়েতেই মন নেই । এতসব ভাবনা চিন্তা তার মাথায় এল বটে কিন্তু মুখে কিচ্ছটি বলল না । সুয্যিমা ছাড়া স্বর্গে তার উপায়টা কী । বিদেশ বিভূঁই বলে কথা । মাথা গোঁজবার একটা ঠাই তাে আপাতত চাই । তা ছাড়া খিদেয় পেট চেঁচো করছে । পরে সুযােগ বুঝে পিটটান দিলেই হবে । অতএব মুখে হাসি টেনে সে বলল , মা আপনার সংসারে আমাকে ঠাই দেবেন সে তাে আমার পরম সৌভাগ্য । তবে আমি পৃথিবীর সামান্য মেয়ে , আমি কি আর স্বর্গের দেবতার যােগ্য?
সুয্যিমাও কম চালাক নন । এমন সুন্দর মেয়েকে তিনি ঘরের লক্ষ্মী করবেনই । মিষ্টি হেসে বলেন , বেশ তাে বাছা , তুমি আমার বাড়িতে এসে আগে কদিন থাকো তাে । তােমাকে আমি জোরজবরদস্তি কিছু করব না । আমার ছেলের সঙ্গে আলাপ পরিচয় হােক । দেখবে সে দেবতাদের সর্দার হলে কি হয় , এমন ভালাে মন , এমন নরম স্বভাব তুমি পৃথিবীর মানুষের মধ্যে মোটেও দেখানো।
মাটির মেয়েকে হাত ধরে নিয়ে তাে সুয্যিমা বাড়ি এলেন । কত ভালােমন্দ রান্না হল তার জন্য । সােনার থালায় সাজিয়ে কত যত্নে আদরে খাওয়ালেন । সুন্দর রেশমি শাড়ি , হিরে জহরতের গয়নায় দিলেন তাকে সাজিয়ে । তারপর বললেন , যাও তাে মা , বাগানে একটু বেড়িয়ে এসাে । আমার ছেলে সুয্যি সেখানে আছে । আলাপ - সালাপ হবে । দেখাে , তার আগুনের মতাে টকটকে লাল রং দেখে যেন ভয় পেয়ো না।
এদিকে ছেলে সুয্যিকেও বলে কয়ে বাগানে পাঠান । দেখ গিয়ে মাটির মেয়ের কী রূপ , কী লাবণ্য । কী কোমল তার চোখের চাউনি । স্বর্গের দেবীগুলাে তার পাশে তাে কাঠের পুতুল । মার কথায় সুয্যি যেই বাগানে ঢুকেছেন , তার প্রচণ্ড আলাের ছটায় চারিদিক যেন ঝলসে গেল । মাটির মেয়ে তাে ভয়ে চোখ ঢাকে দু - হাতে । সুয্যি তার সঙ্গে কথা বলেন । সে কোনাে উত্তর দেয় না । মুখ নিচু করে খালি বসেই থাকে । একা একা খানিকক্ষণ কথা বলে সুয্যিঠাকুর ঘরে ফিরে আসেন । কিন্তু তিনি হাল ছাড়েন না । মেয়েটি সত্যি বড়াে অপরূপ । তার পরম স্নেহের পাত্র চাঁদকে পাঠান কনের মখে কথা ফোটাতে । কিন্তু মেয়ে চাঁদের আলাে দেখেও মুখ খােলে না । পর পর কত সঙ্গীসাথি নক্ষত্র তারা পাঠালেন সুয্যিঠাকুর । কিন্তু কারাে সাধ্য হল না ওই একফোটা মেয়ের মুখ থেকে এতটুকু আওয়াজ বের করে।
তখন সবাই সলাপরামর্শ করে সুয্যিকে বললেন , আর্যদেব আমরা তাে সব খালি হাতে গিয়েছি , তাই আমাদের বউঠাকুরনের মুখ ভার । তখন সুয্যি ভাবতে বসলেন কী দেবেন তার কনেকে । পৃথিবীর মেয়ের নিশ্চয়ই পৃথিবীর জিনিসই ভালাে লাগবে । এই ভেবে সুয্যিঠাকুর পৃথিবীতে যা যা ফলে তার সব কিছু থেকে একটু একটু করে নিয়ে এক বিরাট তত্ত্ব সাজিয়ে পাঠালেন।
সে একটা ধুম বটে । চাঁদ আগে আগে । পেছনে তারার দল । একের পর এক সব জিনিস নিয়ে রাখে মাটির মেয়ের সামনে । মেয়ে কিন্তু এক পলক দেখেই মুখ ঘুরিয়ে নেয় । তার মুখ ভারই রয়ে যায় । পৃথিবীর কোনাে জিনিসেই পৃথিবীর মেয়ের মন ওঠে না । শেষে অনেক মাথাটাথা ঘামিয়ে সুয্যি নিজেই হাজির হন । সঙ্গে তার এক বিশেষ উপহার । একটি সােনার হাঁড়িতে তার নিজের আলাে । কনের সামনে রেখে তিনি নিজে আড়ালে গিয়ে দাড়ান । মাটির মেয়ে এদিক - ওদিক চেয়ে ইতস্তত করে আস্তে আস্তে হাঁড়ির ঢাকনাটা খােলে । ব্যস , চারিদিক একেবারে সােনায় সােনা।
এইবার মেয়ের মুখে ফুটল হাসি । বলে উঠল , বাঃ কী সুন্দর ! অমনি সুয্যির বাড়িতে শােরগােল পড়ে গেল । কনে কথা কয়েছে , কনে কথা কয়েছে । কেউ বা নিয়ে এল সুগন্ধি তেল , কেউ বা বসে গেল প্রসাধনের সাজসরঞ্জাম নিয়ে । সুয্যিমা নিজের হাতে তার সর্বাঙ্গে পরিয়ে দিলেন রক্তের মতাে লাল চুনির গয়না । শুভলগ্নে স্বর্গের দেবতার সঙ্গে পৃথিবীর মেয়ের বিয়ে হয়ে গেল ।
সুখে শান্তিতে তাদের দিন কাটে । তিনটি ফুটফুটে ছেলে হল । বাপের মতাে তাদেরও গায়ের রং আগুনের মতাে । অথচ মুখেচোখে মায়ের মাটির লাবণ্য।
এদিকে সুয্যিবউয়ের সব সুখের মধ্যে যে একটি ছোট্ট কাঁটা রয়ে গেছে । মাঝেমাঝেই মনে পড়ে ফেলে আসা পৃথিবী আর বাবা - মা - ভাই - বােন সকলের কথা । স্বর্গে সে আছে কত আরামে । সূর্যের আলাে সদাই তাকে নরমেগরমে ঘিরে রাখে । অন্যদেরও । তাই সবার চোখেমুসে আনন্দ । খুশি ভালােবাসা যেন উপচে পড়ে । আর পৃথিবীতে কী ঠাণ্ডা , দিনের বেলাতে ছায়াছায়া । কারাে মুখে হাসি নেই । বাবা - মা কী কষ্টেই না থাকে । এসব কথা যতই সে ভাবে ততই তার মন খারাপ হয় । শেষে সে স্বামীকে শাশুড়িকে ধরে পড়ে , বাপের বাড়ি যাব।
প্রথমে সকলেই একটু কিন্তু কিন্তু করছিল । পৃথিবী কতদূরের রাস্তা । আর জায়গাটাও সেরকম কিছু ভালাে নয় । একেই ঠান্ডা তার ওপর লােকগুলােও কেমন মনমরা । কিন্তু বউরের আবদারে সুয্যির কান একেবারে ঝালাপালা । এদিকে বউকে সকলেই খুব ভালােবাসে । অতএব সুয্যিমা একদিন বললেন , ওরে , বউমার বাপের বাড়ি যাওয়ার বন্দোবস্ত করে দে । আহা , কতদিন বাপ মাকে দেখেনি । মন কেমন তাে করতেই পারে।
কিন্তু যাব বললেই তাে সুয্যিঠাকুরানির যাওয়া হয় না । এখন সে আর মাটির মেয়েটি নয় । একজন মস্ত দেবতার বউ বলে কথা । হুট করে একলা একলা যাওয়া তো চলে না । সঙ্গে থাকবে কত দাস - দাসী । বাবা - মা - ভাই - বােন আত্মীয় পরিজনের জন্য বয়ে নিয়ে যাবে উপহার উপঢৌকন । সুয্যি নিজে হাতে করে নিয়ে চলল সূর্যের আলোেভরা সােনার হাড়িটা।
সব আয়ােজন শেষে সেই বিরাট লম্বা মােটা দড়িটা একদিন ঝুলিয়ে দেওয়া হল । সেটা বেয়ে বেয়ে তিন ছেলে চাকর - চাকরানি জিনিসপত্র নিয়ে নেমে এল মাটির মেয়ে মাটিতে । দেখে সেই অন্ধকার অন্ধকার মাঠঘাট আদড় - পাদাড় জাল । সৰ সেই একইরকম হিম হিম । বাপের বাড়ি যখন পৌছােল , সকলে তাে বিস্ময়ে হতবাক । তারা ধরেই নিয়েছিল তাদের অবাধ্য মেয়েটা হারিয়ে গেছে বনে - বাদাড়ে । কোনাে না কোনাে জানােয়ারের পায়ের থাবায় কি মাথার শিঙে প্রাণটা তার গেছে । হয়তাে বা কারাে পেটেই গেছে অমন সুন্দর মেয়েটা । এত বছর বাদে সেই মেয়ে কিনা জলজ্যান্ত তাদের সামনে হাজির । শুধু তাই নয় , শাড়ি গয়নায় ঝলমলে কী রূপ তার ! কেমন কোল আলাে করা তিনটি ছেলে । কত দাস - দাসী ধনরত্ন ! বাবা - মার তাে খুশি আর ধরে । তাদের মেয়ে তাে একেবারে রাজরানি । বাড়িতে ভালােমন্দ খাওয়াদাওয়া , হইচই আনন্দ , আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধব ডাকাডাকির ধুম পড়ে গেল।
সুয্যিঠাকুর বউকে ছেড়েছেন মােটে তিনদিনের জন্য । দেখতে না দেখতে দিন কটা হুস করে কেটে গেল । মাটির মেয়ে চোখের জল মুছতে মুছতে স্বামীর ঘরে ফেরবার জন্য পা বাড়ায়।
স্বর্গে ফেরার জন্য সূয্যি বউ সেই লম্বা মােটা দড়িটা ছোয়ামাত্রই সা করে ওপরে পৌঁছে যায় । সে স্বর্গে পা ফেলেই সুয্যিবউয়ের মনে পড়ে । ওই যাঃ বড় ভুল হয়ে গেছে তাে ! সােনার হাঁড়িতে বন্ধ সূর্যের আলাে যেমনটি নিয়ে গিয়েছিল তেমনটিই সে ফিরিয়ে এনেছে । কত শখ ছিল , বাপের বাড়ির সবাইকে দেখাবে এমন অপূর্ব জিনিস তা আর হল কই । এই তিনদিনের হট্টগােলের মধ্যে বেমালুম ভুলেই গেল এসব কথা। এখন ফিরে এসে কী আপশােস । আহা ,এমন জিনিসটা দেশের কাউকে দেখাতে পারলাম না । হঠাৎ তার মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল । এক কাজ করলে হয় না , হাড়িটার ঢাকনা খুলে একটুখানি যদি আলাে ফেলে দেওয়া যায় , নিশ্চয় নীচে মাটিতে গিয়ে পড়বে । আর সবাই দেখতে পাবে । ব্যস্ত হয়ে তাড়াতাড়ি ঢালতে গিয়ে সুয্যিউ পুরাে হাড়িটাই উপুড় করে ফেলল।
অমনি সমস্ত পৃথিবী সােনার মতাে আলােয় ঝলমল করে উঠল । কোথায় গেল গা কনকনে ঠান্ডা আর পেঁয়াধোয়া কুয়াশা ! মানুষের মুখে ফুটল হাসি । পাখি উঠল গান গেয়ে । রােদ পােহাতে দলে দলে বেরােল বনের জীবজন্তু । ফুলে ফুলে লাগল রঙের ছোঁয়া ।
সুয্যিঠাকুর ওপর থেকে দেখলেন , তাই তাে ! পৃথিবীর সকলেরই তার আলাে বড্ড দরকার । আরও দেখলেন যে মাটির মেয়ে স্বর্গে এত সুখের মধ্যেও মাটির প্রতি তার ভালােবাসা হারায়নি । বউয়ের মুখ চেয়ে তিনি ঠিক করলেন দিনের বেলা যেমন তার আলােয় পৃথিবী আলােময় , রাতের বেলায়ও একটা ব্যবস্থা তিনি করবেন । পাঠালেন চাঁদ ও তারাদের । ঘুচল পৃথিবীর রাতের অন্ধকার।
সেই থেকে এই পৃথিবীতে ভাের হয় , দুপুর গড়িয়ে আবার আসে রাত । আর দিনের উত্তাপে , রাতের শীতলতায় এবং নতুন নতুন প্রাণপ্রাচুর্যের বন্যায় মিশে থাকে সেই মাটির মেয়ের কোমল মমতা মাখানাে স্পর্শটুকু — সংগােপনে।


0 Comments